ব্ল্যাকমেইল, মামলা বাণিজ্য, প্রতারণা ও দেহ ব্যবসার অভিযোগে আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


ব্ল্যাকমেইল, মামলা বাণিজ্য, প্রতারণা ও দেহ ব্যবসার অভিযোগে আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে তাহরিমাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের সময় তাহরিমা একটি বিলাসবহুল হোটেলে দেহ ব্যবসা চালানোর চেষ্টায় ধরা পড়েন, যেখানে তিনি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে ছিলেন।

সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছে জুলাই আন্দোলনের মামলার ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এই চক্রের মূল নেতৃত্বে ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ভাইরাল জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা। তদন্তে উঠে এসেছে, তাহরিমা বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন, যা 'খাট কাপানো' বা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে অর্থ ও প্রভাব লাভের জন্য ব্যবহার করতেন। সূত্রমতে, কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের নাম তার ফোনের রেকর্ড থেকে উদ্ধার হয়েছে, যাদের সাথে তিনি গোপন মিলনের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের জাল বিস্তার করেছিলেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্ল্যাকমেইলিং, চাঁদাবাজি ও দেহ ব্যবসার মাধ্যমে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। দেহ ব্যবসার অংশ হিসেবে তাহরিমা একটি গোপন নেটওয়ার্ক চালাতেন, যেখানে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে অর্থ উপার্জন করতেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় ঘটে যাওয়া হত্যা মামলায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে টাকা আদায় করা হয়। মামলার আসামি বানানো, পুলিশী হয়রানি, গ্রেপ্তারের ভয় এবং ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার নাম করে চক্রটি বিপুল অঙ্ক দাবি করে। এছাড়া, তাহরিমা তার রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের আরও ভয় দেখাতেন, যেমন একজন মন্ত্রীর সাথে তার ঘনিষ্ঠতার ছবি দেখিয়ে।

প্রতারণার মূল হোতা তাহরিমা জান্নাত সুরভী গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং টার্গেট করা লাইভের কারণে তিনি পরিচিত মুখ। তবে নতুন তথ্যে উঠে এসেছে, তার ভাইরালতা আসলে একটি পরিকল্পিত প্রতারণার অংশ ছিল, যেখানে তিনি দেহ ব্যবসা ও রাজনৈতিক যৌন কেলেঙ্কারির মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, নিজের ভাইরাল পরিচিতি ব্যবহার করে তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ তৈরি করতেন এবং পরবর্তীতে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তার ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, তিনি একাধিক রাজনীতিবিদের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটিয়েছেন, যা এখন তদন্তের অংশ হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ